মাদ্রাসায় পড়তাম ছোটবেলায়। থাকতাম হোস্টেলে। খাবার আসতো বাসা থেকেই। বাড়ী যেতাম না। মানে, যেতে দেওয়া হতনা।
বাড়ী যেতাম দু-তিন সপ্তাহ, কখনোবা একমাস পর। তাও আবার, বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় যেয়ে, শুক্রবার জুম্মার পর চলে আসতে হত।
বয়স তখন আমার কতইবা?!
দশ কি বারো।
সে এক দুর্বিষহ আত্মজীবন কাহিনী।
বড় দু'বোন জন্মের অনেক পরে আমার জন্ম।
পরিবারের সবার চোখের মণি।
একটা পিঁপড়া কামড় লাগার আগেই। জায়গাটা চুন দিয়ে লেপে দেওয়া। ফুলে গেলে গরম ছ্যাঁক দেওয়া; আরো কত কী.....!!
সেই আদরের সন্তান আমি!
নিজে গোসল করি, লুঙ্গি ধুই, মশারী টাঙাই.... বিছানা পাড়ি.. উঠাই..... সেই ভোর রাতে, আজানের আগে ঘুম থেকে উঠি....
মায়ের জন্য সবসময় মনটা আঁকুপাকু করতো, পুড়তো!
বাড়ী যেতে চাইতাম। আমি কাঁদতাম....
কোন কিছুতেই কাজ হতনা। যেমন ছিলেন শ্রদ্ধেয় হুজুর কড়া, তেমনি আমার আব্বা!!!
খালি ছুতো খুঁজতাম। বাড়ী যাওয়ার।
একমাত্র উপায় ছিল অসুস্থতা। কিন্তু কী জন্য যেন, তখন অসুস্থ হতামও কম।
কী করে বাড়ী যাওয়া যায়! এই ফন্দী আঁটতাম সারাদিন ।মাঝে ভেজা কাপড় পরে, ঠাণ্ডা লাগাতাম। বোগলের নিচে বড় দুটো রসুন দিয়ে রাতে শুয়ে থাকতাম। শরীরে তাপ বাড়াতাম। কাঁথার নিচে শুয়ে থাকতে.. থাকতে.. গরমে ঘেমে যেতাম। তবুও কাঁথা সরাতাম না। যদি জ্বর কমে যায়।
সকালে আব্বা আসতেন। কাঁথা সরিয়ে মাথায় হাত দিতেন। বলতাম, কিছুক্ষণ আগে গা ঘেমে জ্বর পড়ে গেছে।
অসুস্থ বলে কথা!
আব্বা বাড়ী নিয়ে যেতেন সকালে।
পথেই সুস্থ!
আব্বা ভেলকিবাজিটা বুঝতেন না। বাসায় গিয়ে যথারীতি ছুটোছুটি। বিকেলে হলে আব্বা মা'কে বলতেন। খোকনের ( আমার) জামা কাপড় গুছিয়ে দাও। ওকে মাদ্রাসায় দিয়ে আসি।
মা বলতেন, আজ রাতটা থাক। কাল সকালে দিয়ে আইসেন। আব্বার কথা এক। বাড়ী থাকলে পড়ার ক্ষতি হবে। শয়তানে ধোকা দেবে....
বিকেলে যাওয়ার সময় মা আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতেন.... সাথে আমিও।
*
অনেক সতীর্থ একই কাজ করতে থাকলে। হুৃজুর কেমনে জানি ধরে ফেললেন, চালাকীটা ।
এরপর যে'ই শুয়ে থাকতো। জ্বরের ভান করতো। সেই, আগে তার বোগল চেক করা হত।
রসুন আছে কিনা?!
থাকলে সে কী মাইর!! বাপরে বাপ!! যাকে শুদ্ধ বাংলায় বলে বেদম প্রহার....
রসুনের কার্যকারীতা ততক্ষণই থাকত; যতক্ষণ সেটা বোগলে রাখা হয়।এটা কৃত্রিম উত্তাপ....
*
(ধুঁৎ! কী লিখতে বসে কী লিখছি।)
লিখতে বসেছিলাম কৃত্তিম সংকট নিয়ে। বাংলাদেশে কৃত্তিম সংকট তৈরী করা হয়। অনেকটা ইচ্ছে করেই। যদি, সংকট তৈরী না হয়। বোগলে রসুন দিয়ে।
-নাসিরাবাদ, রামপাল, সাঁওতাল....
বিএনপি নিষ্ক্রিয়। জামাত - শিবির কৌশলী ভূমিকায়। জাতীয় পার্টি কোমায়। অন্যান্য ছোট ছোট দল গুলো নিরব দর্শক। ক্ষমতার একচ্ছত্র আধিপত্যে আ'লীগ।
তাহলে প্রশ্ন থাকে এতোগুলো জাতীয় ও স্হানীয় সংবাদপত্রের খবরের কাঁচামাল কী?
বাঙালী চায় নিত্য নতুন খবর।
খবর?
খবর তো নেই!
সম্পাদকের নির্দেশ। তাইলে খবর তৈরী করো। তাজা খবর।
যদি কোন ইস্যু নাই পাও। বোগলে রসুন দাও।
আমরা বগলে রসুন দিয়ে শরীরে তাপ ছড়াতে সিদ্ধহস্ত।
*
কী হয়েছিল নাসিরাবাদে?!
এক মূর্খ কুলাঙ্গার। ফটোশপের কারসাজিতে মুসলমানদের প্রাণের স্পন্দন পবিত্র ক্বাবা শরীফকে অবমাননা করে।স্বাভাবিক ভাবেই বিক্ষুব্ধ হয় মুসলিম সম্প্রদায়। কুলাঙ্গারের সর্ব্বোচ্চ বিচারের দাবী ওঠে। যেটা অমূলক নয়।
কিন্তু এরই মাঝে। কিছু স্বার্থান্বেষী মহল। বিড়ির আগুনকে স্ফুলিঙ্গ বানিয়ে; সেটাকে দাবানলে পরিণত করে। তারা নিরাপরাধ, নির্দোষ, সাধারণ হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ীতে আক্রমন করে। এই উম্মাদ গোষ্ঠী এখানেই ক্ষ্যান্ত না হয়ে। আক্রমন করে মন্দিরে। আগুন লাগায় বসতভিটা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয়ে....
ঘটনার সমাপ্তি হতে পারতো এখানেই....কিন্তু না।
পুলিশ বেষ্টিত নাসিরাবাদে এক সপ্তার ব্যবধানে। আবারও আগুন দিয়ে পুড়ানো হল ১৫টি বাড়ী। এরপর আবারও....
কে দিল আগুন ??? পুলিশী বেষ্টন!! পুরুষ শূণ্য নাসিরাবাদ....
সর্ষে ভুত নয় তো??!!
ওখানে তো হেফাজত ইসলাম। জামাত ইসলামের জোর নেই...
তাহলে কে??
বিএনপি!!
খবরের কাগজে দেখলাম। নাসিরাবাদ ঘটনায় আটক বিএনপি নেতাকে ছাড়িয়ে আনতে গেছেন হিন্দু নেতারা।
তাহলে এখান থেকে আমরা কী বার্তা পাই....?!
*
নাসিরাবাদ ইস্যু কিছুটা মৃয়মাণ হতে না হতেই সাঁওতাল ইস্যু।
প্রশাসন অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সরকারী সম্পত্তি পুণরুদ্ধার করতে যায়। কিন্তু নেপথ্যের কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের উসকানীতে। নিরীহ সাঁওতালরা দেশীয় অস্ত্রে সুসজ্জিত হয়ে। সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে। অবস্হা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ গুলি ছোড়ে। এবং দুর্ভাগ্য বশত ৩জন সাঁওতাল নিহত হয়। সরকার ইতোমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত সাঁওতালদের পুণঃবাসনের ঘোষণা দিয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাহায্য সহযোগিতা করা হচ্ছে....
সাঁওতালদের দাবী এটা তাদের বাপ দাদার পুরোনো সম্পত্তি....
আমার নানা দের আদি বসতভিটা। পাকিস্হান সরকার, আর্মিদের জন্য একীভূত করে। সেখানে বর্তমানে প্রাকৃতিক উপায়ে!! শেয়াল, বেজী, সাপের প্রজনন খামার হয়েছে ।
এখন আমরা কী সে জায়গা দাবী করে, হাঙ্গামা বাধাবো?
নানার সম্পত্তির উত্তরাধীকারী হিসেবে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে। এরপরও কেন এ নিয়ে এতো নোংরা রাজনীতি?!!
*
রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর নির্বিচারে গুলি চলছে। আমরা দারুণভাবে ব্যথিত হচ্ছি। ইসরাঈলের পর আমাদের সবচেয়ে ঘৃণিত রাষ্ট্র মায়ানমার।
গোমাংস সংরক্ষণের অপবাদে আখলাক হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়, ভারতে। আমরা ব্যথিত হই।
ট্রাম্পের মুসলিম বিদ্বেষী তীর্যক মন্তব্যে আমরা ক্ষুব্ধ হই। সুযোগ খুঁজি ঘৃণা প্রকাশের।
তদ্রূপ,
ভারতও কিন্তু তাদের স্বজাতির দুর্দশার খবরে উদ্বিগ্ন হয়। ক্ষুব্ধ হয়। ঘৃণা আর বিদ্বেষ ছড়ায় সে দেশীয় নিরীহ মুসলমানদের উপর।
তারা আমাদের আভ্যন্তরীন রাজনীতি বোঝে না। গুটিবাজি বোঝে না। বোঝে সংখ্যালঘু নির্যাতন।
*
বাংলাদেশে বহু জাতি গোষ্ঠীর ধর্ম, বর্ণ, প্রথার সহাবস্হান শত সহস্র বছরের!
এখানে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, সাঁওতাল, চাকমা, মারমা, গারো... কেউ আকাশ থেকে পড়েনি। ঝড়ে উড়ে আসেনি। বন্যার বানের জলে ভেসে আসেনি। মাটি ফুঁড়ে বের হয়নি। এদেশ মুসলিম - হিন্দু - বৌদ্ধ - খ্রিস্টান সবার। এদেশের প্রতিটা মানুষ, প্রাণী, বস্তু, ধূলীকণা আমার আপনার সবার। এদের নিরাপত্তা, সম অধিকার, রক্ষার নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্বটাও সবার।
*
দেশে কিশোর ও যুবসমাজের একটি বড় অংশ ইয়াবাসক্ত। কিছু কোমলমতি কিশোর যুবা জঙ্গী মতাদর্শে ধাবিত। নৈতিক অবক্ষয় ঠেকেছে তলানীতে। সামাজিক মূল্যবোধ করছে অসহায় আর্তনাদ....
যেখানে প্রয়োজন ছিল সামাজিক সমস্যা সমাধানে জনমত গঠন। সমন্বিত ও ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস।
সেখানে আমরা নিত্যনতুন ইস্যু নিয়ে মাঠ গরম করছি। বাড়াচ্ছি বিভেদ আর সংশয়....
*
আসুন সকল ভেদাভেদ ভুলে। দেশকে ভালোবাসি। দেশের মানুষকে ভালবাসি। বোগলে রসুন দিয়ে উত্তাপ না বাড়িয়ে। দেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ করতে প্রতীজ্ঞ বদ্ধ হই......
স্বপ্নদেখি সুন্দর বাংলাদেশ গঠনের....
লিখেছেন: আহসানুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
বাড়ী যেতাম দু-তিন সপ্তাহ, কখনোবা একমাস পর। তাও আবার, বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় যেয়ে, শুক্রবার জুম্মার পর চলে আসতে হত।
বয়স তখন আমার কতইবা?!
দশ কি বারো।
সে এক দুর্বিষহ আত্মজীবন কাহিনী।
বড় দু'বোন জন্মের অনেক পরে আমার জন্ম।
পরিবারের সবার চোখের মণি।
একটা পিঁপড়া কামড় লাগার আগেই। জায়গাটা চুন দিয়ে লেপে দেওয়া। ফুলে গেলে গরম ছ্যাঁক দেওয়া; আরো কত কী.....!!
সেই আদরের সন্তান আমি!
নিজে গোসল করি, লুঙ্গি ধুই, মশারী টাঙাই.... বিছানা পাড়ি.. উঠাই..... সেই ভোর রাতে, আজানের আগে ঘুম থেকে উঠি....
মায়ের জন্য সবসময় মনটা আঁকুপাকু করতো, পুড়তো!
বাড়ী যেতে চাইতাম। আমি কাঁদতাম....
কোন কিছুতেই কাজ হতনা। যেমন ছিলেন শ্রদ্ধেয় হুজুর কড়া, তেমনি আমার আব্বা!!!
খালি ছুতো খুঁজতাম। বাড়ী যাওয়ার।
একমাত্র উপায় ছিল অসুস্থতা। কিন্তু কী জন্য যেন, তখন অসুস্থ হতামও কম।
কী করে বাড়ী যাওয়া যায়! এই ফন্দী আঁটতাম সারাদিন ।মাঝে ভেজা কাপড় পরে, ঠাণ্ডা লাগাতাম। বোগলের নিচে বড় দুটো রসুন দিয়ে রাতে শুয়ে থাকতাম। শরীরে তাপ বাড়াতাম। কাঁথার নিচে শুয়ে থাকতে.. থাকতে.. গরমে ঘেমে যেতাম। তবুও কাঁথা সরাতাম না। যদি জ্বর কমে যায়।
সকালে আব্বা আসতেন। কাঁথা সরিয়ে মাথায় হাত দিতেন। বলতাম, কিছুক্ষণ আগে গা ঘেমে জ্বর পড়ে গেছে।
অসুস্থ বলে কথা!
আব্বা বাড়ী নিয়ে যেতেন সকালে।
পথেই সুস্থ!
আব্বা ভেলকিবাজিটা বুঝতেন না। বাসায় গিয়ে যথারীতি ছুটোছুটি। বিকেলে হলে আব্বা মা'কে বলতেন। খোকনের ( আমার) জামা কাপড় গুছিয়ে দাও। ওকে মাদ্রাসায় দিয়ে আসি।
মা বলতেন, আজ রাতটা থাক। কাল সকালে দিয়ে আইসেন। আব্বার কথা এক। বাড়ী থাকলে পড়ার ক্ষতি হবে। শয়তানে ধোকা দেবে....
বিকেলে যাওয়ার সময় মা আমাকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতেন.... সাথে আমিও।
*
অনেক সতীর্থ একই কাজ করতে থাকলে। হুৃজুর কেমনে জানি ধরে ফেললেন, চালাকীটা ।
এরপর যে'ই শুয়ে থাকতো। জ্বরের ভান করতো। সেই, আগে তার বোগল চেক করা হত।
রসুন আছে কিনা?!
থাকলে সে কী মাইর!! বাপরে বাপ!! যাকে শুদ্ধ বাংলায় বলে বেদম প্রহার....
রসুনের কার্যকারীতা ততক্ষণই থাকত; যতক্ষণ সেটা বোগলে রাখা হয়।এটা কৃত্রিম উত্তাপ....
*
(ধুঁৎ! কী লিখতে বসে কী লিখছি।)
লিখতে বসেছিলাম কৃত্তিম সংকট নিয়ে। বাংলাদেশে কৃত্তিম সংকট তৈরী করা হয়। অনেকটা ইচ্ছে করেই। যদি, সংকট তৈরী না হয়। বোগলে রসুন দিয়ে।
-নাসিরাবাদ, রামপাল, সাঁওতাল....
বিএনপি নিষ্ক্রিয়। জামাত - শিবির কৌশলী ভূমিকায়। জাতীয় পার্টি কোমায়। অন্যান্য ছোট ছোট দল গুলো নিরব দর্শক। ক্ষমতার একচ্ছত্র আধিপত্যে আ'লীগ।
তাহলে প্রশ্ন থাকে এতোগুলো জাতীয় ও স্হানীয় সংবাদপত্রের খবরের কাঁচামাল কী?
বাঙালী চায় নিত্য নতুন খবর।
খবর?
খবর তো নেই!
সম্পাদকের নির্দেশ। তাইলে খবর তৈরী করো। তাজা খবর।
যদি কোন ইস্যু নাই পাও। বোগলে রসুন দাও।
আমরা বগলে রসুন দিয়ে শরীরে তাপ ছড়াতে সিদ্ধহস্ত।
*
কী হয়েছিল নাসিরাবাদে?!
এক মূর্খ কুলাঙ্গার। ফটোশপের কারসাজিতে মুসলমানদের প্রাণের স্পন্দন পবিত্র ক্বাবা শরীফকে অবমাননা করে।স্বাভাবিক ভাবেই বিক্ষুব্ধ হয় মুসলিম সম্প্রদায়। কুলাঙ্গারের সর্ব্বোচ্চ বিচারের দাবী ওঠে। যেটা অমূলক নয়।
কিন্তু এরই মাঝে। কিছু স্বার্থান্বেষী মহল। বিড়ির আগুনকে স্ফুলিঙ্গ বানিয়ে; সেটাকে দাবানলে পরিণত করে। তারা নিরাপরাধ, নির্দোষ, সাধারণ হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়ীতে আক্রমন করে। এই উম্মাদ গোষ্ঠী এখানেই ক্ষ্যান্ত না হয়ে। আক্রমন করে মন্দিরে। আগুন লাগায় বসতভিটা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় উপাসনালয়ে....
ঘটনার সমাপ্তি হতে পারতো এখানেই....কিন্তু না।
পুলিশ বেষ্টিত নাসিরাবাদে এক সপ্তার ব্যবধানে। আবারও আগুন দিয়ে পুড়ানো হল ১৫টি বাড়ী। এরপর আবারও....
কে দিল আগুন ??? পুলিশী বেষ্টন!! পুরুষ শূণ্য নাসিরাবাদ....
সর্ষে ভুত নয় তো??!!
ওখানে তো হেফাজত ইসলাম। জামাত ইসলামের জোর নেই...
তাহলে কে??
বিএনপি!!
খবরের কাগজে দেখলাম। নাসিরাবাদ ঘটনায় আটক বিএনপি নেতাকে ছাড়িয়ে আনতে গেছেন হিন্দু নেতারা।
তাহলে এখান থেকে আমরা কী বার্তা পাই....?!
*
নাসিরাবাদ ইস্যু কিছুটা মৃয়মাণ হতে না হতেই সাঁওতাল ইস্যু।
প্রশাসন অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সরকারী সম্পত্তি পুণরুদ্ধার করতে যায়। কিন্তু নেপথ্যের কিছু স্বার্থান্বেষী মহলের উসকানীতে। নিরীহ সাঁওতালরা দেশীয় অস্ত্রে সুসজ্জিত হয়ে। সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে। অবস্হা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ গুলি ছোড়ে। এবং দুর্ভাগ্য বশত ৩জন সাঁওতাল নিহত হয়। সরকার ইতোমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত সাঁওতালদের পুণঃবাসনের ঘোষণা দিয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সাহায্য সহযোগিতা করা হচ্ছে....
সাঁওতালদের দাবী এটা তাদের বাপ দাদার পুরোনো সম্পত্তি....
আমার নানা দের আদি বসতভিটা। পাকিস্হান সরকার, আর্মিদের জন্য একীভূত করে। সেখানে বর্তমানে প্রাকৃতিক উপায়ে!! শেয়াল, বেজী, সাপের প্রজনন খামার হয়েছে ।
এখন আমরা কী সে জায়গা দাবী করে, হাঙ্গামা বাধাবো?
নানার সম্পত্তির উত্তরাধীকারী হিসেবে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে। এরপরও কেন এ নিয়ে এতো নোংরা রাজনীতি?!!
*
রোহিঙ্গা মুসলিমদের উপর নির্বিচারে গুলি চলছে। আমরা দারুণভাবে ব্যথিত হচ্ছি। ইসরাঈলের পর আমাদের সবচেয়ে ঘৃণিত রাষ্ট্র মায়ানমার।
গোমাংস সংরক্ষণের অপবাদে আখলাক হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়, ভারতে। আমরা ব্যথিত হই।
ট্রাম্পের মুসলিম বিদ্বেষী তীর্যক মন্তব্যে আমরা ক্ষুব্ধ হই। সুযোগ খুঁজি ঘৃণা প্রকাশের।
তদ্রূপ,
ভারতও কিন্তু তাদের স্বজাতির দুর্দশার খবরে উদ্বিগ্ন হয়। ক্ষুব্ধ হয়। ঘৃণা আর বিদ্বেষ ছড়ায় সে দেশীয় নিরীহ মুসলমানদের উপর।
তারা আমাদের আভ্যন্তরীন রাজনীতি বোঝে না। গুটিবাজি বোঝে না। বোঝে সংখ্যালঘু নির্যাতন।
*
বাংলাদেশে বহু জাতি গোষ্ঠীর ধর্ম, বর্ণ, প্রথার সহাবস্হান শত সহস্র বছরের!
এখানে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, সাঁওতাল, চাকমা, মারমা, গারো... কেউ আকাশ থেকে পড়েনি। ঝড়ে উড়ে আসেনি। বন্যার বানের জলে ভেসে আসেনি। মাটি ফুঁড়ে বের হয়নি। এদেশ মুসলিম - হিন্দু - বৌদ্ধ - খ্রিস্টান সবার। এদেশের প্রতিটা মানুষ, প্রাণী, বস্তু, ধূলীকণা আমার আপনার সবার। এদের নিরাপত্তা, সম অধিকার, রক্ষার নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্বটাও সবার।
*
দেশে কিশোর ও যুবসমাজের একটি বড় অংশ ইয়াবাসক্ত। কিছু কোমলমতি কিশোর যুবা জঙ্গী মতাদর্শে ধাবিত। নৈতিক অবক্ষয় ঠেকেছে তলানীতে। সামাজিক মূল্যবোধ করছে অসহায় আর্তনাদ....
যেখানে প্রয়োজন ছিল সামাজিক সমস্যা সমাধানে জনমত গঠন। সমন্বিত ও ঐক্যবদ্ধ প্রয়াস।
সেখানে আমরা নিত্যনতুন ইস্যু নিয়ে মাঠ গরম করছি। বাড়াচ্ছি বিভেদ আর সংশয়....
*
আসুন সকল ভেদাভেদ ভুলে। দেশকে ভালোবাসি। দেশের মানুষকে ভালবাসি। বোগলে রসুন দিয়ে উত্তাপ না বাড়িয়ে। দেশকে উন্নত ও সমৃদ্ধ করতে প্রতীজ্ঞ বদ্ধ হই......
স্বপ্নদেখি সুন্দর বাংলাদেশ গঠনের....
লিখেছেন: আহসানুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

