বিজয়ের ৪৫ বছর

0


বিজয়ের মাস শুরু হলো। পিছনে তার ৪৫ বছরের বাংলাদেশের ইতিহাস। অবশ্য বাংলার ইতিহাস হাজার বছরের। তবে ২০০৯ সাল থেকে এদেশের ইতিহাস সঠিক নেতৃত্বের পথে অগ্রসর হয়েছে। ২০১৬ সালে এসে আমরা নিজেদের দিকে ফিরে তাকালে দেখতে পাই সারা বিশ্ব এখন বাংলাদেশের এগিয়ে চলা মনোযোগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে। কেবল বড় বড় প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়া নয়, এদেশে আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা আজ উচ্চারিত হচ্ছে। ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার মধ্য দিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শেষ হচ্ছে, টেকসই উন্নয়নের জন্য ভবিষ্যত্ প্রসারী কর্মসূচি গৃহীত হয়েছে, সাধারণ ও দরিদ্র মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে; আর অগ্রগতির অংশীদারী করার জন্য সারা বিশ্বের সঙ্গে একত্রে কাজ করছে বর্তমান সরকার। সব মিলে বিজয়ের মাসে এদেশের অর্জনগুলো তুলে ধরার জন্য আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের দিকেই তাকাতে হবে।
মুক্তিযোদ্ধারা একটি স্বপ্ন নিয়ে দেশ স্বাধীন করেছেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণের জন্য মানুষকে যুদ্ধে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। স্বপ্নের সোনার বাংলা ধারণাটি সম্পূর্ণ বিমূর্ত না হলেও অনেকের কাছে এখনও তা অস্পষ্ট। কেউ যদি মনে করেন, জাতির জনকের সোনার বাংলা মানে সুইজারল্যান্ডের মতো ধনী এবং মধ্যপ্রাচ্যের মতো অনেক সম্পদ মজুদ সমৃদ্ধ দেশ- তাহলে সে ধারণা ভুল। বঙ্গবন্ধুর ইতিহাস, ভূগোল ও বিশ্ব অর্থনীতি সম্পর্কে অত্যন্ত স্পষ্ট জ্ঞান ছিল। স্বাধীনতার পর দেশ রাতারাতি উন্নত তথা ধনী দেশে পরিণত হবে- তিনিও এমনটি চিন্তা করতেন না। উন্নত দেশ হওয়ার জন্য যথাযথ শর্তসমূহের উপস্থিতি এবং ব্যবহারের বিষয়ে অনেক দ্বি-মত রয়েছে। ১৯৭১ সালে যদি পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠন করা না হতো তাহলে আমাদেরকে পাকিস্তানের অংশই থাকতে হতো। কিন্তু সেই পাকিস্তানের এখন কী অবস্থা? সামাজিক, রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক এমনকি আন্তর্জাতিক সম্পর্কসহ সকল সূচকে পাকিস্তান আমাদের তুলনায় পিছিয়ে রয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে পাকিস্তানের অর্জন আমাদের তুলনায় অর্ধেকও নয়। স্বাধীন না হয়ে আমরা যদি পূর্ব পাকিস্তান হয়েই থাকতাম তাহলে আমাদের অবস্থা ঠিক একই রকম হতো। বর্তমানে বাংলাদেশের অবস্থান কেবল পাকিস্তান নয়, ভৌগোলিক অবস্থানগত দিক থেকে পাশাপাশি সার্কভুক্ত দেশগুলোর তুলনায় আর্থ-সামাজিক অনেক বিবেচনাতেই এগিয়ে আছে। স্বাধীনতা লাভের পর আমাদের প্রথম স্বপ্ন, পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়ে স্বতন্ত্র জাতিগোষ্ঠী হিসেবে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের মালিক হওয়া, তা সার্থক হয়েছে। এখন কেউ যদি প্রশ্ন করে মুক্তিযুদ্ধের বড় সুফল কী ? তাহলে বলবো ‘আমরা পাকিস্তান নামক একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রের অংশ নই’- এটিই বড় পাওয়া। পাকিস্তানের অর্ধেক অংশ এখন তালেবানদের দখলে। কেবল তাই নয়, আমেরিকানদের অন্যতম ঘাঁটি পাকিস্তান, সেখানে আকাশ থেকে অনবরত বোমা ও ড্রোন হামলা হচ্ছে এবং জানমালের কোনো নিরাপত্তা নেই। এসব দিক থেকে পরিত্রাণ পাওয়া তথা পাকিস্তান নামক দুষ্ট-ভ্রান্ত রাষ্ট্রের অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া- এটিই স্বাধীনতার সর্বোচ্চ সাফল্য। এরপরও বলা হয়, যে সকল ক্ষেত্রে আমাদের উন্নতি করা এবং এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল- আমরা সে লক্ষ্যে পৌঁছতে পারিনি। কিন্তু এর পিছনেও কারণ রয়েছে। ১৯৭১ সালে অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার চেতনা নিয়ে দেশ স্বাধীন হয়। যে চেতনাগুলো ’৭২ -এর সংবিধানের স্তম্ভ হিসেবে সন্নিবেশিত হয়। কিন্তু ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট জাতির জনককে ঘাতকরা হত্যা করে। আর এই হত্যাকাণ্ডসহ অন্য ঘটনার মধ্য দিয়ে আমাদের বাঙালিত্ব, জাতীয়তাবাদ, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং একটি শোষণমুক্ত সমাজ গঠনের যাত্রার পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। অর্থাত্ পুনরায় একটি পূর্ব পাকিস্তান কায়েম করা হয়। শুধু বাংলাদেশের নামটি পরিবর্তন করার সাহস দেখায়নি ষড়যন্ত্রকারীরা। বাংলাদেশ নামেই শুরু হয় পাকিস্তানি কার্যক্রম, পাকিস্তানের ধ্যান-ধারণা, চিন্তা-চেতনার যা কিছু ছিল, তার সবকিছুই আবার ফিরে আসে। এতে স্বাধীনতার চেতনা বাধাগ্রস্ত হয়। যে স্বপ্ন, চেতনা, ধ্যান-ধারণা নিয়ে মানুষ দেশ স্বাধীন করেছিল তার বিপরীতধর্মী একটি শক্তি বাংলাদেশে ক্ষমতায় আসে। তারা ক্ষমতায় বসে প্রথমেই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস করে। 
১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে এদেশে সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক ধ্যান-ধারণা প্রতিষ্ঠিত হয়। একইসঙ্গে সব রকমের প্রতিক্রিয়াশীলতা সৃষ্টি হয়। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান ‘জয় বাংলা’-এর পরিবর্তে ‘বাংলাদেশ জিন্দাবাদ’ জিয়াউর রহমান চালু করেন। বাংলাদেশ বেতারের নাম পরিবর্তন করে ‘রেডিও বাংলাদেশ’ করা হয়। এভাবেই তারা স্বাধীনতাবিরোধী প্রতিক্রিয়াশীল শক্তিদের পুনর্বাসন এবং শীর্ষ পর্যায়ের মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী শাহ্ আজিজসহ অন্য নেতৃত্বকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্র ক্ষমতায় প্রতিষ্ঠিত করার কাজ করে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশের সামাজিক এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রে যতো ধরনের পরিবর্তন আনা হয়, তাতে স্বাধীনতার চেতনা- ধর্মনিরপেক্ষতা এবং বৈষম্যহীন সমাজের আবেদন বিনষ্ট করা হয়। কেবল তাই নয়, এখানে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় বিভিন্ন ধর্ম ভিত্তিক সংগঠন গড়ে তোলা হয়। এসব কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে দ্বি-জাতি তত্ত্বের চেতনা পুনঃপরস্ফুিটিত হতে থাকে। সব চেয়ে দুঃখজনক হলো, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিভিন্ন দূতাবাসে চাকরি দেওয়া হয়। চরম পৃষ্ঠপোষকতা হিসেবে জেনারেল এরশাদ বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের দল ফ্রিডম পার্টিকে অবাধ রাজনীতির সুযোগ প্রদান করেন। এদের নেতৃত্বকে নির্বাচিত করে মহান জাতীয় সংসদ পর্যন্ত নিয়ে বসায়। এসব ঘটনার মধ্য দিয়ে জাতি কেবল রাজনৈতিকভাবে পিছিয়ে যায়নি বরং অর্থনৈতিকভাবে উন্নত হওয়ার জন্য যে জাতীয় চেতনাবোধ অর্থাত্ একটি শক্তিশালী সুখী সমৃদ্ধ দেশ গড়ার স্বপ্ন, তা নস্যাত্ হয়। ’৯০ এর দশকে পাকিস্তানি ভাবধারার সামরিক স্বৈরশাসনের পতন হয়। মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী আওয়ামী লীগ সরকার ১৯৯৬ সালে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়ে উল্টো যাত্রা থেকে দেশকে সঠিক পথে ফিরিয়ে নিয়ে আসে। দেশ আবার স্বাধীনতার চেতনায় ফিরে আসে। 
বর্তমানে আমাদের কতগুলো অর্থনৈতিক টার্গেট ঘোষণা করা হয়েছে। তা হলো—আমরা ২০২১ সালে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সালের মধ্যে ধনী রাষ্ট্রে পরিণত হবো। ধনী দেশ হওয়ার হিসেব মূলত বিশ্বব্যাংকের মাথাপিছু আয়ের উপর নির্ভর করে নির্ধারণ করা হয়। আমাদের মাথাপিছু আয় যদি চার হাজার বা সাড়ে চার হাজার ডলারে উন্নীত হয়, তাহলে আমরা স্বল্পোন্নত দেশের তালিকায় থাকব না, অর্থাত্ উন্নত দেশের দিকে ধাবিত হবো। কিন্তু ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, এই রকম আয়সমৃদ্ধ দেশ পৃথিবীতে এক সময় অনেক ছিল। বর্তমানে যুদ্ধরত দেশ সিরিয়া, লেবানন, ইরাক, লিবিয়া মাথাপিছু আয়ের হিসেবে অনেক আগেই উন্নত। কিন্তু সেই রাষ্ট্রগুলো এখন ধ্বংসপ্রাপ্ত। এর অন্যতম কারণ হচ্ছে, কেবলমাত্র মাথাপিছু আয়ের ভিত্তিতে অর্থনৈতিক উন্নয়ন তথা মানুষের পোশাক-আশাক রাস্তাঘাট, বাড়ি-গাড়ি অথবা খাওয়া-দাওয়া অর্থাত্ ভোগের আধিক্যভিত্তিক জীবনযাত্রার উন্নয়ন, যা টেকসই উন্নয়ন নয়, সাম্প্রতিককালে তা প্রমাণিত হয়েছে। মানবিক উন্নয়নের সামাজিক সূচক আমাদের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ছিল। সব ধর্মের মানুষ সমান অধিকার ভোগ করবে, রাষ্ট্র কোনো ধর্মকে পৃষ্ঠপোষকতা করবে না, ধর্মীয় হানাহানি এবং বিভেদ থাকবে না - মুক্তিযুদ্ধের এসব চেতনা পরবর্তীকালে নাশ হয়ে যায়। ডলারের হিসেবে দারিদ্র্য হলেও আমরা মনোভাবের দিক থেকে চল্লিশের দশকেও এখনকার চেয়ে ধনী ছিলাম। এদেশে শিয়া এবং সুন্নিদের মধ্যে কোনো বিভেদ ছিল না। আমরা মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনা থেকে দূরে সরে গিয়ে অসহিষ্ণু জাতিতে পরিণত হয়ে হানাহানিতে লিপ্ত হলে আমাদের প্রকৃত উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে না। এজন্য আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি মানব সম্পদেরও উন্নয়ন করতে হবে। মানুষকে কারিগরি প্রশিক্ষণ দিয়ে এমনভাবে শিক্ষিত করে তুলতে হবে যাতে তারা দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখতে পারেন। এমনটিই হলো প্রকৃত মানবসম্পদ উন্নয়ন। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মানবিক মূল্যবোধের উন্নয়ন। এতে আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মত মানবিক সম্পদের উন্নয়নও নিশ্চিত হবে। পড়ালেখা এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানুষের মাঝে যদি সাম্প্রদায়িক মনোবৃত্তি যেমন- শিয়া, সুন্নি, ইয়াজিদি, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ উগ্র ধর্মীয় মতাদর্শ এবং বিভেদ থাকে তাহলে আমরা আবার বিভ্রান্তিতে পড়ব। অর্থাত্ আমাদের উন্নয়ন টেকসই হবে না। তবে সাম্প্রদায়িক অসহিষ্ণুতার যে রেশটুকু আছে তা বর্তমান সরকারের নানামুখি কর্মকাণ্ডের বদৌলতে প্রশমিত হওয়ার পথে।
এক্ষেত্রে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে যে ত্রুটিগুলো আছে তা সংশোধন করতে হবে। আগে বেশ কয়েকটি শিক্ষা কমিশন এদেশে হয়েছে। সর্বশেষ ২০১০-এ একটি জাতীয় শিক্ষানীতি গৃহীত হয়। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, স্বাধীনতার আগ থেকে আমরা বলে আসছি, শিক্ষা ব্যবস্থা হবে একমুখী। সবাইকে একই সিলেবাসে প্রাথমিক শিক্ষা দেওয়া হবে। তার মধ্যে অবশ্যই ধর্মীয় মূল্যবোধ থাকবে। বিজ্ঞানভিত্তিক একটি শিক্ষা ব্যবস্থা করা হবে। সমাজে কিছু লোক রয়েছে- যারা মানুষের কল্যাণে শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বিনির্মাণসহ নানা সামাজিক সেবামূলক কর্মকাণ্ডের কাজে নিয়োজিত। তাদেরকে মানুষ বিশ্বাস করে। কাজেই মুক্তমানসিকতা, সহিষ্ণুতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তাদের মাধ্যমে প্রচার করা দরকার। 
চরম বিরোধিতা এবং প্রতিকূলতা থাকা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়তার জন্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচার সম্পন্ন হচ্ছে। ইতোমধ্যে কয়েকজন যুদ্ধাপরাধীর রায় কার্যকর হয়েছে এবং বাকিদেরও হবে। নানা দিক থেকে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। জাতির জনককে হত্যার পর আমাদের রাজনীতিতে আর একটি উপসর্গ ছিল সামরিকীকরণ। সে সময় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এমন পর্যায়ে ছিল, কোনো কিছু হলেই উত্তরপাড়া অর্থাত্ সেনাবাহিনীর কথা তোলা হতো। ’৭৫ থেকে ’৯০ পর্যন্ত আমাদের রাজনীতি সেনাবাহিনী বেষ্টিত এবং সরাসরি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিলাম আমরা। এই অবস্থা থেকে বের হয়ে আসার জন্য প্রধান পদক্ষেপটি শেখ হাসিনাই নিয়েছিলেন। একটি রাজনৈতিক দলের জন্ম এবং অবস্থান ক্যান্টনমেন্টে হওয়ার কারণে মানুষের ধারণা ছিল, দেশের রাজনীতি ওই ক্যান্টনমেন্ট থেকে নিয়ন্ত্রিত হয়। জিয়া, এরশাদ ও খালেদা জিয়া সেনানিবাসেই বসবাস করতেন। সামরিক এবং বেসামরিক যে আদলেই হোক না কেন ক্ষমতার মূল কেন্দ্রবিন্দু ছিল ক্যান্টনমেন্ট। এই সুবিধা বিএনপিই সবসময় নিয়েছে। শেখ হাসিনার যতো অবদান আছে- তার মধ্যে বড় অবদান হলো ওই দলকে ক্যান্টনমেন্ট থেকে বের করে আনা। এ ঘটনা আমাদের রাজনীতিতে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ঘটনাসমূহের মধ্যে একটি। ৫ জানুয়ারি নির্বাচন এবং এর আগে-পরে এমনকি ২০১৫ সালের শুরুতে সন্ত্রাসী আন্দোলন হয়। নিরপেক্ষ নির্বাচন আন্দোলনকারী জামায়াত-বিএনপি জোটের লক্ষ্য ছিল না। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করা- যাতে তাদের জন্মদাতাদের বংশধর কেউ ক্ষমতা দখল করে। এই অপচেষ্টা ব্যর্থ হওয়াও আমাদের রাজনীতিতে একটি বড় ঘটনা। এ ধরনের হিংসাশ্রয়ী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে কাউকে ক্ষমতায় আনা সম্ভব নয়, এটিও একটি প্রতিষ্ঠিত সত্য। আমাদের দেশ মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভিত্তিতে চলবে।
বিজয়ের মাসের সূচনায় আমার বক্তব্য হলো, অর্থনৈতিকভাবে দেশ যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, শত চেষ্টা করলেও তা প্রতিহত করা যাবে না। আমাদের অর্থনৈতিক সূচক এমন সক্রিয়, তাতে কেউ না চাইলেও দেশ এগিয়ে যাবে। সামাজিক সূচকেও আমাদের অগ্রগতি বিস্ময়কর। তবে অর্থনৈতিক উন্নয়ন যেমন দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, তেমনি রাজনৈতিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে খুব চিন্তা করে কাজ করতে হবে। যাতে উভয়ের মধ্যে একটি সামঞ্জস্য থাকে। যদি সামাজিক-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন একতালে অগ্রসর হয় তাহলে আমরা ২০৪১ সালের আগেই জাতির জনকের স্বপ্ন-সুখী, সমৃদ্ধশালী সোনার বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে পারব। 

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

0মন্তব্যসমূহ

Please Select Embedded Mode To show the Comment System.*