৪০ তম বিসিএসে আমার ভাইভা অভিজ্ঞতা প্রকাশিত হয়েছে দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকায় , প্রকাশিত করেছেন M M Mozahid Uddin ভাই।
‘কখনো কি পথ হারিয়েছিল বাংলাদেশ?’
নুর আলম, ৪০তম বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার (সুপারিশপ্রাপ্ত)। বর্তমানে সহকারী পরিচালক, দুর্নীতি দমন কমিশন। তার ভাইভা অভিজ্ঞতা শুনেছেন এম এম মুজাহিদ উদ্দীন
ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। ৪০তম বিসিএসে আমার ভাইভায় প্রশ্নোত্তর পর্ব ছিল ২৩ মিনিটের মতো
চেয়ারম্যান : Hey young man, You are from Hatibandha, Lalmonirhat?
আমি : Yes, Sir.
চেয়ারম্যান : You are not completed your post-graduation yet?
আমি : Yes Sir, I’ve completed, I attached my documents here, Sir please check it. (এরপর চেয়ারম্যান স্যার পর্যায়ক্রমে গণতন্ত্র, মদিনা সনদ ও বিদায় হজ নিয়ে পর্যায়ক্রমে প্রশ্ন করেন। উত্তরে বিস্তারিত বলেছি)।
এক্সটার্নাল-১ : নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান, ভয় নাই তার ভয় নাই। এর আগের লাইন বলুন।
আমি : স্যরি স্যার, মনে করতে পারছি না (স্যার বললেন পিএসসির গেটেই তো লেখা ছিল, পারা উচিত ছিল আপনার)।
এক্সটার্নাল-১ : আপনার সামনে টেবিলের বাঁয়ে একটা কবিতা আছে, আবৃত্তি করুন। কে লিখেছেন, উনার কয়েকটি লেখার নাম বলুন, উনি জীবিত নাকি মৃত্যুবরণ করেছেন? সম্প্রতি মারা গেছেন, নাকি অনেক আগেই?
আমি : (আবৃত্তি করলাম) হাসান হাফিজুর রহমানের কবিতা। ‘ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের দলিলপত্র’ সম্পাদনা ছাড়াও তিনি বেশ কিছু কাব্য রচনা করেছেন, ‘আর্ত শব্দাবলী’, ‘বিমুখ প্রান্তর’, ‘যখন উদ্যত সঙ্গীন’ ও ‘শোকার্ত তরবারি’ কাব্য অন্যতম। স্যার, উনি মারা গেছেন (সম্প্রতি মারা গেছেন কি না বলতে না পারায় স্যার বলেছেন—‘তিনি আপনার জন্মের আগেই মৃত্যুবরণ করেছেন’)।
এক্সটার্নাল-১ : (একটি ছবি দেখিয়ে) ছবির নিচে কী লেখা আছে, পড়ুন।
(লেখা ছিল ‘পথ হারাবে না বাংলাদেশ’)
এক্সটার্নাল-১ : কখনো কি পথ হারিয়েছিল বাংলাদেশ? বাংলাদেশ কি কখনো পথ হারিয়েছিল? কবে? কী হয়েছিল?
আমি: জি স্যার, ১৯৭৫ সালে, স্বৈরাচারী শাসন প্রবর্তনের মাধ্যমে যা ১৯৯০ সাল পর্যন্ত বিদ্যমান ছিল। এর ফলে দেশের উন্নয়ন ব্যাহত হয়েছিল, বিনিয়োগ কমে এসেছিল...।
এক্সটার্নাল-১: বাংলাদেশ কি আবার কখনো পথ হারানোর আশঙ্কা আছে?
আমি : কোনো আশঙ্কা নেই স্যার! আমাদের সংবিধানের ৭(ক) ও (খ) নং অনুচ্ছেদে এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হয়েছে, তাই কোনো দল কিংবা কোনো স্টেট অ্যাক্টর ক্ষমতা দখল করার দুঃসাহস করবে না!
এক্সটার্নাল-২: আপনার বাসা হাতীবান্ধার কোথায়? আশপাশে কোথায় যুদ্ধ হয়েছিল?
আমি: জি স্যার, আমার বাড়ি হাতীবান্ধার ভেলাগুড়িতে। স্যার, আমার গ্রামে যুদ্ধ না হলেও পাশের এলাকাগুলোতে হয়েছিল।
এক্সটার্নাল-২: ভাখারীপুল অপারেশন কোথায় হয়েছিল?
আমি: স্যার, ভোটমারি বাজারের দক্ষিণে রেললাইনের পাশে ভাখারীপুলে।
এক্সটার্নাল-২: হাতীবান্ধায় একটি বড় অপারেশন পরিচালিত হয়েছিল, যার বর্ণনা বেশ কয়েকটি বিখ্যাত গ্রন্থে উল্লেখ আছে, অপারেশনের নাম কী? কমান্ডার কে ছিলেন? কোন বইয়ে উল্লেখ আছে?
আমি: স্যার, বড়খাতা ব্রিজ অপারেশন। কমান্ডার ছিলেন ক্যাপ্টেন মতিউর রহমান বীর-উত্তম। স্যার, মেজর রফিকুল ইসলামের ‘লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে ও স্বাধীনতাযুদ্ধের দলিলপত্র’ বইয়ে উল্লেখ আছে।
এক্সটার্নাল-২: লালমনিরহাটে কজন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা আছেন? নাম বলুন। একজন জীবিত আছেন...
আমি : স্যার, তিনজন। ক্যাপ্টেন মতিউর রহমান বীর-উত্তম; ক্যাপ্টেন তমিজ উদ্দিন বীরবিক্রম ও ক্যাপ্টেন আজিজুল হক বীরপ্রতীক। স্যার, আজিজুল হক সাহেব এখনো জীবিত আছেন, তাঁর বাসা লালমনিরহাট সদরে।
এক্সটার্নাল-২: ৬ নম্বর সেক্টরের ৫টি সাব-সেক্টরের কমান্ডারের নাম বলুন।
আমি : ক্যাপ্টেন সদরউদ্দিন, ক্যাপ্টেন নজরুল ইসলাম, ক্যাপ্টেন মতিউর রহমান, ক্যাপ্টেন দেলোয়ার হোসেন ও ক্যাপ্টেন নওয়াজেশ।
চেয়ারম্যান : আপনার প্রিয় সাহিত্যিকের নাম ও ‘আকাশলীনা’ কবিতাটি বলুন।
আমি : স্যার, জীবনানন্দ দাশ (‘আকাশলীনা’ কবিতার দুই লাইন আবৃত্তি করতেই স্যার থামিয়ে দিলেন)।
চেয়ারম্যান : নাহ, আপনি অন্য আরেকজন সাহিত্যিকের নাম বলুন। তাঁর কর্ম বলুন।
আমি: আহমদ ছফা (নাম খুঁজে পাচ্ছিলাম না)। ‘যদ্যপি আমার গুরু’, ‘বুদ্ধিবৃত্তির নতুন বিন্যাস’, ‘বাঙ্গালি মুসলমানের মন’, ‘গাভী বৃত্তান্ত’, ‘অর্ধেক নারী অর্ধেক ঈশ্বরী’... (স্যার এরপর প্রতিটি বইয়ের রিভিউ জিজ্ঞেস করেছেন, ভালোভাবে উত্তর করতে পেরেছিলাম)।
এক্সটার্নাল-২ : ‘যদ্যপি আমার গুরু’ বইয়ে গুরু কে ছিলেন? রাজ্জাক সাহেবের পিএইচডি কেন হয়নি? পিএইচডি সুপারভাইজার কে ছিলেন? থিসিসের নাম?
আমি : স্যার, প্রফেসর আব্দুর রাজ্জাক। হ্যারল্ড লাস্কি উনার সুপারভাইজার ছিলেন। পিএইচডি থিসিস সাবমিটের আগেই হ্যারল্ড মৃত্যুবরণ করেন। থিসিসের নাম ছিল ‘Political parties in India’|
চেয়ারম্যান : ছফা সাহেবের একজন ভক্ত আছেন, বর্তমানে যিনি বেশ আলোচিত, নাম জানেন? আপনি তাঁকে পছন্দ করেন?
আমি: স্যার, ড. সলিমুল্লাহ খান। স্যার, উনার শিক্ষা ও সামাজিক সংস্কারমূলক বক্তব্যগুলো আমাদের তরুণসমাজকে অনুপ্রাণিত করে।
এক্সটার্নাল-২ : সলিমুল্লাহ খান ও আহমদ ছফার বাড়ি কোথায়?
আমি: স্যরি স্যার, সলিমুল্লাহ খানের বাড়ি কোথায়, খেয়াল নেই (বাড়ি কক্সবাজারে); আহমদ ছফার বাড়ি চট্টগ্রামে ।
এক্সটার্নাল-২: ধর্মপাশায় পদায়ন করা হলে যাবেন? এটা কী?
আমি: জি স্যার যাব, এটা সুনামগঞ্জের একটা উপজেলা।
চেয়ারম্যান : বর্তমানে লালমনিরহাটের জীবিত একজন বিখ্যাত ব্যক্তির নাম বলুন?
আমি: স্যার, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মোতাহার হোসেন, এমপি মহোদয়।
চেয়ারম্যান : ইঞ্জিনিয়ার নজরুল ইসলাম সাহেবকে চিনেন?
আমি: জি স্যার, ১৯৭১ সালের ৯ মার্চ তিনি আমাদের হাতীবান্ধায় সর্বপ্রথম বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করেন।
চেয়ারম্যান: ওকে, আপনি আসুন (সালাম দিয়ে চলে আসি)।
-দৈনিক কালের কণ্ঠ / চাকরি আছে
©এম এম মুজাহিদ উদ্দীন
লেখক : ভাইভা বোর্ডের মুখোমুখি,
ব্যাংকার’স ভাইভা বোর্ড।

.jpg)